আগরতলা গভর্নমেন্ট মেডিক্যাল কলেজ অ্যান্ড জিবিপি হাসপাতালের অর্থোপেডিক বিভাগের উল্লেখযোগ্য সাফল্যে এক রোগী প্রাণ ফিরে পেলেন। ৪ এপ্রিল ২০২৬ রাণীরবাজার কাউয়াবনের বাসিন্দা, টুটন শীল(৪৮) প্রতিদিনের মতোই নিজের সাইকেল চালিয়ে বাড়ি ফিরছিলেন। কিন্তু বাড়ির ঠিক কাছাকাছি পৌঁছানো মাত্রই বিপরীত দিক থেকে আসা একটি দ্রুতগামী মোটরসাইকেল তাকে সজোরে ধাক্কা দিয়ে পালিয়ে যায়। এই মারাত্মক দুর্ঘটনায় তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন এবং তার বাম দিকের কোমরের জয়েন্ট (পেলভিক বোন)মারাত্মকভাবে ভেঙে গিয়েছিল।
দুর্ঘটনার পরপরই তাকে দ্রুত রাণীরবাজার প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসার পর পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনা করে তাকে জিপিবি হাসপাতালে রেফার করা হয় এবং ৪ এপ্রিল রাতে তাকে সেখানে ভর্তি করানো হয়। ট্রমা সেন্টারে প্রাথমিক দেখভালের পর তাকে অর্থোপেডিক বিভাগে স্থানান্তর করা হয়। তবে জটিলতার কারণে অন্যান্য ইউনিট থেকে তাকে রাজ্যের বাইরে রেফার করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল, যা পরিবারের জন্য ছিল অত্যন্ত দুশ্চিন্তার ও ব্যয়বহুল। এমন কঠিন পরিস্থিতিতে আশার আলো হয়ে এগিয়ে আসেন অর্থোপেডিক বিভাগের সার্জন ডাঃ পুলক সাহা। তিনি অত্যন্ত সহানুভূতির সাথে রোগীর দায়িত্ব নেন এবং বাইরে রেফার না করে নিজেই চিকিৎসার সিদ্ধান্ত নেন।
গত ২৯ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে ডাঃ পুলক সাহা ও তার টিম অত্যন্ত সফলতার সাথে টুটন শীলের পেলভিক বোন-এর জটিল অস্ত্রোপ্রচারটি সম্পন্ন করেন। এই জটিল প্রক্রিয়ায় অস্ত্রোপচারে সময় লাগে প্রায় ৪ ঘন্টা । ট্রমা কেয়ার সেন্টারে ইনচার্জ ও অর্থোপেডিক সার্জন ডাঃ পুলক সাহার তত্ত্বাবধানে এই চিকিৎসক টিমে ছিলেন ডাঃ স্বরজিৎ দেববর্ম্মা এবং ডাঃ সন্তোষ রিয়াং সঙ্গে টিমে ছিলেন নার্স, টেকনিশিয়ান ও অন্যান্য স্বাস্থ্যকর্মীরা।
ডাক্তারবাবুর মানবিকতা, সঠিক সিদ্ধান্ত এবং দক্ষ চিকিৎসার ফলেই টুটন শীল আজ সুস্থতার পথে। এটি কেবল একটি সফল অপারেশনই নয়, বরং চিকিৎসকদের প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা ও ভরসা পুনরুজ্জীবিত করার এক অনন্য গল্প। গত ১১ মে, ২০২৬ রোগীকে হাসপাতাল থেকে ছুটি দেয়া হয়।
আয়ুষ্মান কার্ডের মাধ্যমে সম্পূর্ণ বিনামূল্যেই জিবিপি হাসপাতালে অতি দ্রুততার সাথে এই ধরনের উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থা লাভ করে রোগীর পরিবার পরিজনেরা খুবই আনন্দিত। গত ৩ জুলাই তিনি আবার অর্থোপেডিক ডিপার্টমেন্টে রুটিন চেকআপে আসেন। বর্তমানে তিনি সম্পূর্ণ সুস্থ এবং চলাফেলা করতে কোনও অসুবিধা হয় না এখন তার। উল্লেখ্য, উত্তর পূর্বাঞ্চলের হাতেগোনা যে কয়টি ইনস্টিটিউশনে (পেলভিক বোন) অস্ত্রোপচার হয়, তার মধ্যে আগরতলা গভর্নমেন্ট মেডিক্যাল কলেজ অ্যান্ড জিবিপি হাসপাতাল অন্যতম।






